শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৫

সুজয় চক্রবর্তীর অণুগল্প : যা ঠান্ডা!

 যা ঠান্ডা


সুজয় চক্রবর্তী 


অমিত খুব হিসাবী। সবাই জানে। বাজে পয়সা খরচ করে না। আড়ালে ওকে তাই কেউ কেউ 'কিপটে'ও বলে। কিন্তু পুজোর ছুটিতে বাড়ি এলে সবার জন্য এটা-ওটা নিয়ে এসে অন্যের কাছে নিজের 'সেই' ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা করে। এবারও এনেছে। 

বাবার জন্য এনেছে একটা গায়ে দেওয়ার চাদর। বাবা তো আর ঠাকুর দেখতে যায় না! কবে থেকেই শয্যাশায়ী। চাদরটা হাতে নিয়ে বাবা বললো, 'অমু, আমার জন্য একটা লেপ করে দিবি, বাবা? গতবার যা ঠান্ডা পড়েছিল!' 

----- লেপ! কেন, কাঁথায় মানাচ্ছে না? ঠিক আছে, এখনও তো ঠান্ডা সেভাবে পড়েনি, করে দেবো।

ছুটি শেষে বাবার জন্য একটা লেপ করে দিয়ে গেল অমিত। 

কর্মসূত্রে অমিত পুনেতে থাকে। রোজই নিয়ম ক'রে বাড়িতে ফোন করে সে। 


আজ ফোন করতে ভালো-মন্দ জানার আগেই বউ বলে উঠলো, 'জানো, বাবার না শ্বাস উঠছে ঘনঘন। হাঁপের টানটা সকাল থেকে আরও বেড়েছে। জানি না কোন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো।' 

----- কোন ডাক্তার দেখাবে আমি এখান থেকে কী করে বলবো! যেটা ভালো হয়, ক'রো। আর শোনো, লেপটা বাবার গা থেকে সরিয়ে নিয়ো, বুঝলে?  বলা তো যায় না, যা ঠান্ডা! 


-----------

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন